

মোঃ রুবেল: গত ১৭ বছরে দেশ থেকে শত সহস্র টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা। বুধবার মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেট এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, প্রিয় মুন্সীগঞ্জবাসী। মুন্সীগঞ্জে যতগুলো জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। সবগুলো নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জয়ী হয়েছে। আগামীতে ৩টি বা ৪টি যতগুলো সিটেই নির্বাচন হোক আমরা ইনশাআল্লাহ জয় লাভ করবো। আপনারা দোয়া করবেন ও সহযোগিতা করবেন। আমি ১৯৬৪ সালে একবার মুন্সীগঞ্জে এসেছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে সেই সময়ে মুন্সীগঞ্জ যেমন ছিল এখনও তার কোন পরিবর্তন হয় নাই। আমরা যদি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাই বা মহিউদ্দিন নির্বাচিত হয়েছে ক্ষমতায় যায় তাহলে অবশ্যই মুন্সীগঞ্জে কিছু করার জন্য সহযোগিতা করবো। সারাদেশে যতগুলো সাব ডিভিশন হয়েছে বা জেলা হয়েছে সবগুলোরই পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের কোন পরিবর্তন হয়নি। মুন্সীগঞ্জ অনেক অবহেলিত। মুন্সীগঞ্জে কেউ শাসন করেছে বলে আমার মনে হয় না। শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করি আব্দুল হাই সাহেবকে। যিনি অসুস্থ্য হয়ে শুয়ে আছেন। আজকে তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন আমার সাথে রাজনীতি করছে। আমি আশা করবো তিনি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে রাজনীতি করতে পারবেন। আমি আপনাদের এতোটুকু বলতে চাই আমাদের দ্বারা আপনাদের কোন ক্ষতি হবে না। বরঞ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। ১৫-১৬ বছর চলে গেছে। দেশ থেকে শত সহস্র টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। দেশের শাসন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। কোন সুশাসন নাই। দুঃশাসনের জ্বালায় আমরা নিপেড়িত ও নিস্পেসিত। আজকে যেই ক্ষমতা সরকার নিয়ে আছেন তারা নিজেরা কোন সরকার হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন নাই। আমরা দল থেকে বারবার বলতেছি। আপনি নির্বাচনটা দিয়ে দাও। তোমাদের পক্ষে সম্ভব না এই দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আশা করি আগামীতে যদি জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসে অবশ্যই দেশে শান্তি আসবে। ঢাকা শহরে আমরা দেখি আজকে হরতাল, কালকে এটা, কালকে সেটা। চলাচলের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে ঢাকা শহর। এভাবে একটি দেশ চলতে পারেনা।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির ৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহাকে আহ্বায়ক, মহিউদ্দিন আহমেদসদস্য সচিব, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম মৃধা, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শ্রীনগর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল বাতেন শামীম, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিক উল্লাহ ফরিদ ও টংগিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হোসেন দোলনকে সদস্য করা হয়। এই কমিটির সকল সদস্যকেই গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।