
প্র্ধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন

মোঃ রুবেল: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামীলীগের অপকর্মে জনগণ মুখ ঘুরিয়েছে বিএনপিকে সে পথ ত্যাগ করতে হবে। সোমবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আয়োজনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইনশৃক্সখলা পরিস্থির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা এবং রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবেলাসহ বিভিন্ন জনদাবীতে বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকার ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকারকে আমরাও সমর্থন করেছি। আমরা যে জন্য রাস্তায় নেমেছি। আপনারা জানেন এই সরকারের সময় সীমিত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। তাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিবে। কিন্তু এই সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরে জাতীয় নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে। আর এ দেশের জনগণের দাবী হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের কাজটা কি? এ নির্বাচনে কারা প্রার্থী হয়? স্থানীয় নেত্রীবৃন্দ। তারা ইউনিয়নের উন্নয়নের কাজ কর্ম করে। তাদের কিন্তু জাতীয় কোন কাজ করা নয়। সংসদ নির্বাচনে যদি জনগণ স্বতস্পূর্তভাবে ভোট দেয় এবং যখন সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। তাদের মেনুফ্যাকশনের মধ্যে থাকবে গণতন্ত্র, দেশের উন্নয়ন, দেশের আইনশৃক্সখলা ও দেশের অর্থনীতি। সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হবে। আর সেই সরকারই স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করবে। তাই জাতীয় ও স্থানীয় সরকারকে কখনোই তুলনা করা উচিত নয়। যারা করছে তারা ষড়যন্ত্র করছে। এদেশে প্রমানিত হয়েছে এ দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পুরানো দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আর দ্বিতীয় দল ছিল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। তারা এদেশে ফ্যাসিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। শেখ হাসিনা নিজে আওয়ামীলীগকে হত্যা করে দিয়েছে এবং এ দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে। মাঠে আওয়ামীলীগ নাই। এখন যদি নির্বাচন হয় তাহলে জনগণের একমাত্র বিকল্প হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আরেকটি ধারনা উদয় হয়েছে তারা সংস্কার করবে। তারপর নির্বাচন দিবে। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার কোন দিনই এ সংস্কার করতে পারে না। সংস্কার করবে জনগণের নির্বাচিত সরকার। এ সরকারকে সংস্কার করার জন্য আমরাই সমর্থন করেছি। কিন্তু তাদের সময় ছয় মাস শেষ হয়ে গেছে। তারা এর মধ্যে কোন সংস্কার করতে পারেনি। তাই তাদেরকে নির্বাচন মুখী হতে হবে। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঠিক করতে হবে। যেদিন নির্বাচনের দিন তারিখ ঠিক করা হবে তখন জনগণ নির্বাচন মুখী হবে। তখন দেশে আর কোন অরাজকতা তৈরী হবে না। আওয়ামীলীগের আমলে দুর্নীতি আর অর্থ লুটপাটের কারণে তাদের প্রতি জনগণ অস্বস্তি বোধ করেছিল। জনগণ আশা করেছিল সেই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাবে। কিন্তু এখন কেউ বলতে পারবে না, দেশে আইন শৃক্সখলা ও দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রন রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন আগামী ডিসে¤^রের মধ্যে হতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি আরো বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে বিএনপি কিন্তু এখনো ক্ষমতায় আসে নাই। গত আওয়ামীলীগের আমলে তারা যে সকল অপকর্ম করেছে যার কারণে জনগণ তাদের থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে। আপনাদের এমন কোন কাজ করা যাবে না যে কারণে জনগণ আপনাদের থেকেও মুখ সরিয়ে ফেলে। তাই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি।
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোঃ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেত্রী রহিমা শিকদার, যুবদল নেতা আ ক ম মোজাম্মেল, গজারিয়া বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ, সিরাজদিখান বিএনপির সভাপতি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমির হোসেন দোলন, শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম ইরাদত মানু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর ফকির প্রমুখ। উক্ত সমাবেশে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকমী মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানটিকে সফল করেন।
