নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সেরাজাবাদ এলাকায় আলু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চাদা দাবী, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আলু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ঢালী কান্দি এলাকার নজু সরকারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫জনের একটি স্বসস্ত্র দল মঙ্গলবার ইফতারের সময় এ ঘটনা ঘটায়। প্রায় ৪০বছর ধরে সেরাজাবাদ এলাকায় উৎপাদিত আলু ঢালী কান্দি এলাকার লোকজন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লুট করে নিয়ে যায় বলে এলাকাবাসীর দাবী।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর আলু উত্তোলনের সময় সেরাজাবাদ এলাকার সাধারণ কৃষকদের থেকে বস্তা প্রতি চাদা দাবী করা হয়। এলাকার মুরব্বিদের সমঝোতায় প্রতি বস্তায় ৫/১০ টাকা করে চাদা দিয়ে গত বছরগুলোতে কৃষক আলু ঘরে নিয়ে থাকেন। এভাবে এলাকার কৃষকগণ বাপ দাদার আমল থেকেই এ প্রক্রিয়া চালু রেখে আসছেন। এ বছর কৃষকদের কাছে বস্তা প্রতি ৫০-১০০ টাকা করে চাদা দাবী করা হয়। কিন্তু এ দাবীটি সেরাজাবাদ এলাকার কৃষকগণ প্রত্যাখান করায় মঙ্গলবার ইফতারের সময় নজু সরকারের নেতৃত্বে ঢালী কান্দি এলাকার স্বপন সরকারের ছেলে সিয়াম সরকার (২৫), নজু সরকারের ছেলে মিরাজ সরকার (২৪), ফারুক সরকারের ছেলে রাফি সরকার (২৫), সিরাজ ঢালীর ছেলে রাজিব ঢালী (৩০), আলতা বেপারীর ছেলে মোক্তার বেপারী (৪৫), হারুন সরকারের ছেলে ইসমাইল সরকার (২৫), কামাল ঢালীর ছেলে সাইফ ঢালী (২২), আব্দুল হাই ঢালীর ছেলে সোহান ঢালী (২৪), কাসেম সরকারের ছেলে শাওন সরকার (৩২), মোক্তার বেপারী ওরফে চোরা মোক্তারের ছেলে ইমন বেপারী (২২), হালিম পাটোয়ারীর ছেলে আরিফ পাটোয়ারী (৩২)সহ প্রায় ২৫ জনের মতো স্বসস্ত্র দল সেরাজাবাদ এলাকার সাধারণ কৃষকের আলু লুট করতে আসে। এসময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া কৃষকদের উপরে অতর্কিতভাবে গুলি চালানো হয়। এসময় মৃত মোঃ রশিদ মোল্লার ছেলে হালিম মোল্লা (৩৮), নুরু মোল্লার ছেলে নিহাদ মোল্লা (১৭) ও কাসেম মোল্লার ছেলে জুবায়ের মোল্লা (৩১) গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া জয়নাল আবেদীন ঢালীর ছেলে শাহ আলী (৪৫)কে মারাত্বকভাবে আহত করা হয়।
সেরাজাবাদ এলাকায় প্রায় ৩শত একর আলুর জমিতে পেয়ার চৌকদার, মুন্না বেপারী, কাদির মোল্লা, রায়হান চৌকদার, চান্দু সরদার, শফি সরদার, স্বপন হালদার, কাসেম চৌকদার, কাসেম ঢালী, রাজা চৌকদার, গনি চৌকদার, রুহুল আমিন মোল্লা, মোঃ আজিজ চৌকদার, ফজল চৌকদার মোফাজ্জল চৌকদার, মনছুর আহেম্মদ চৌকদার, সালেহ আহম্মেদ চৌকদার, কাইয়ুম মোল্লা, আ: রাহিম মোল্লা, শাহ আলম চৌকদার, আনোয়ার চৌকদার, আ: গনি মোল্লা, আবুল বাশার মোল্লা, খোকন চৌকদার, ইফাত মোহাম্মদ হোসেন, নজু মাদবর, বাচ্চু মোল্লা, রফিক মোল্লা, নুর মোহাম্মদ মোল্লা, হোসেন মোল্লা, আমিন মোল্লা, শাহ আলী ঢালীসহ অনেক কৃষকই এ মৌজায় আলু চাষ করেন।
কৃষকদের মধ্যে অনেকেই জানান, মঙ্গলবার ইফতার খাওয়ার সময় নিরিবিলি পরিবেশ পেয়ে ঢালীকান্দির নজু সরকারের নেতৃত্বে প্রায় ২৫জনের স্বসস্ত্র দল ও ককটেল নিয়ে লুটপাট করতে আসে। এসময় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। তারা টঙ্গীবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। আরেকজন মারাত্বকভাবে আহত হয়। তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আমাদের উৎপাদিত আলু উত্তোলনের সময় প্রতি বছরই তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। তারা এ বছর অতিরিক্ত চাদা দাবী করছে। এবছর আলু উৎপাদন বেশি হলেও দাম কম রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা তাদের হুমকি ও আতঙ্কের মুখে রয়েছি। তারা আরো জানান, আলু উত্তোলনের সময় হয়ে গেলেও তাদের জন্য আলু উত্তোলন করতে পারছি না। এদিকে অন্য জেলার আলুতে কোল্ড স্টোরেজের জায়গা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা স্টোরেজে আলু রাখতে পারবো না। ফলে আমাদেরকে অনেক লোকসান গুনতে হবে।
টঙ্গীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহিদুল ইসলাম জানান, সেরাজাবাদ এলাকার আলু উত্তোলনের বিষয়টি আমি অবগত। এ বিষয় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল আলম পিপিএম বলেন, গতকালের ঘটনা স্পটে আমি ও টঙ্গীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ছিলাম। তবে এলাকাটি টঙ্গীবাড়ি হওয়ায় সকল আইনী প্রসেস টঙ্গীবাড়িতে হবে। তাবে বিষয়টি আমি অবগত। আর যারা ঘটনায় জড়িত তারা সদরের ডালী কান্দি এলাকার লোকজন রয়েছে।