ডেস্ক রিপোর্ট, ৫ মে ২০২৬:
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব করতে একগুচ্ছ নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত এসব প্রকল্প ইতোমধ্যে পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপ ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এ উপলক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রকল্পগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আনন্দমুখর এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক শিক্ষা কেবল পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি সময়োপযোগী ও স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। শহর, গ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সভায় প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি)-৫ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন কৌশল, মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (এফএলএন) উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ভাষা শিক্ষায় পাঠ অনুধাবন, শ্রবণ দক্ষতা, কথোপকথন, লেখা ও ভাষাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও নতুন করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে একটি সমন্বিত শিক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ব্যবস্থার আওতায় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), স্মার্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি, স্কুল ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ—সবকিছু একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন, মডেল বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় পুনর্গঠন, স্কুলের খেলার মাঠ উন্নয়ন, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ আকর্ষণীয়করণ, মিড-ডে মিল কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়, নেক্সটজেন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম, পার্বত্য এলাকার বিদ্যুৎবিহীন বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ঢাকা মহানগরের বিদ্যালয় উন্নয়ন, সারাদেশের পিটিআই অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ইউনিয়ন মডেল বিদ্যালয় উন্নয়নসহ আরও বেশ কয়েকটি উদ্যোগ।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মোখলেছুর রহমান (এনডিসি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।