মুন্সিগঞ্জে আ’লীগ-বিএনপি আঁতাতে ২০ হাজার টাকায় সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার পাশে থাকা বহু বছরের পুরোনো দুটি বড় গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এক প্রবাসীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে সরকারি গাছ দুটি কাটার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে গাছের গোড়ায় বালু ফেলে রাখারও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম নিজের জমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে মার্কেটের সামনের সরকারি রাস্তার পাশে থাকা বড় দুটি গাছ নির্মাণকাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ সুযোগে বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শিবু মুন্সী, তার সহযোগী লিটু এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক—এমন কয়েকজনের বিরুদ্ধে গাছ কাটার চুক্তিতে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা নিজেদের দায়িত্বে সরকারি রাস্তার গাছ দুটি কেটে জায়গা খালি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে গাছ দুটি কেটে ফেলার পাশাপাশি কাঠ বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার আলামত আড়াল করতে গাছের গোড়ায় বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবদল নেতা শিবু মুন্সী বন কর্মকর্তাদের কাছে গাছ কাটার অনুমতিপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে বিষয়টি মীমাংসা বা ‘মিউচুয়াল’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে। তবে এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি রাস্তার গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মুন্সীগঞ্জ সদর বন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোমেন বলেন, কেটে নেওয়া গাছগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধারের পর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর আমরা তথ্য নিচ্ছি আশা করি অচিরেই গাছগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হব।
