| |

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস–২০২৫ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস–২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন, বাদাবন সংঘ, বারসিক, ক্যাপস, সিডাব্লিএফ, সিডিপি, ক্লিন রিভার বাংলাদেশ, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা, গ্রীন সেভার্স, হাওর অঞ্চলবাসি, নাগরিক উদ্যোগ, নদী যাত্রিক, নোঙ্গর ট্রাস্ট, নদীপক্ষ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট), রিভারাইন পিপল, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), নবাব বাগিচা সামাজিক উন্নয়ন কল্যাণ পরিষদ, পরিবেশ উদ্যোগ ও গ্রীন ভয়েস এর যৌথ উদ্যোগে আজ ১৪ মার্চ, ২০২৫ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় দেশের সকল নদ-নদী ও খাল দখল-দূষণ মুক্ত করার’-দাবিতে মানববন্ধন ও বুড়িগঙ্গা নদী সরেজমিনে পরিদর্শন কর্মসূচি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাপা’র নির্বাহী সদস্য, ড. হালিম দাদ খান এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক, মো. আলমগীর কবির এর সঞ্চালনায় পরিদর্শন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নদীকৃত্য দিবস উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ও নোঙর ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান সুমন শামস, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক, ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, বাপা’র নির্বাহী কমিটির সদস্য জাভেদ জাহান, বাপা জাতীয় পরিষদ সদস্য হাফিজুল ইসলাম, হাজী শেখ আনছার আলী, গ্রীন ভয়েস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, সিডাব্লিউএফ এর সভাপতি, শাহ্ ইশরাত আজমেরী, সিডিপি’র কর্মকর্তা এ্যডওয়ার্ড এলিয় মধু, এএলআরডির প্রতিনিধি, সানজিদা খান, নবাব বাগিচা সামাজিক উন্নয়ন কল্যাণ পরিষদ এর সহ-সভাপতি মো. সেলিম, গ্রীন ভয়েস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিতলি নাজনীন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রতিনিধি বাবুল মিয়া, ক্যাপস প্রতিনিধি সাকিব আল হাসান, বারসিক প্রতিনিধি হেনা আক্তার রুপাসহ আয়োজক সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন ও গ্রীন ভয়েস বিভিন্ন শাখার সদস্যবৃন্দ।

সকাল ১০.০০টায় সদরঘাট টার্মিনালে মানববন্ধন শেষে ১১টায় বুড়িগঙ্গা নদী সরজমিনে পরিদর্শনে বসিলার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে নদীর দুপাশের বর্তমান দখল ও দূষণের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ড. হালিম দাদ খান বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। গঙ্গা-বহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর পলিমাটি দিয়ে গঠিত একটি বদ্বীপ ভূমি। একাদশ শতাব্দিতে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় হাজার। নদী গুলো ছিল প্রশস্ত, গভীর ও পানিতে টইটুম্বুর, বর্ষাকালে প্রমত্তা। সারাবছর নাব্যতা থাকে তেমন নদীর সংখ্যা আজ সর্ব সাকুল্যে ২৩০টি। দখল উচ্ছেদের পর প্রত্যেকটি নদী, খাল, হাওর, ও বিলের সীমানা পানি বিজ্ঞানের আলোকে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। আমরা আর কোন নদীকে মরতে দিতে পারিনা।

মো. আলমগীর কবির বলেন, সারা দেশের নদ-নদীগুলো নানা অজুহাতে দখল ও দূষণ করা হচ্ছে। এই দূষণের তালিকায় সরকারের আমলা, নেতা, নৌ-কর্মকর্তারাও জড়িত। নদী রক্ষার আইন থাকা সত্ত্বেও তা যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে নদী রক্ষা করা হচ্ছে না। নদীকে জীবন্ত সত্ত্বা বলে আদালত স্বীকৃতী দেওয়ার পরেও নদীকে ক্রমাগত হত্যা করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশের আলোকে দেশের অভ্যন্তরে সমস্ত নদী-বিল-হাওর এবং জলাশয়ের অভিবাবক হিসাবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। আমরা আজকের এই দিনে দেশের সকল নদ-নদী ও খাল দখল ও দূষণ মুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

সুমন শামস বলেন, নদীর প্রকৃত সংজ্ঞা জটিলতায় পড়ে দেশের বেশীর ভাগ নদী মৃতপ্রায়। দ্রুত সংজ্ঞা জটিলতা কাটিয়ে নদীগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং দখল ও দূষণ হওয়া নদীগুলোকে উদ্ধারে জোরালো দাবী জানান। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং ওয়াসার ময়লা যেন নদীতে না ফেলা হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশের সকল শহর নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নদী শেষ হওয়া মানে শহর শেষ হয়ে যাওয়া। দেশের নদী, খাল ও জলাশয় দূষণকারীদের উপর উপযুক্ত জরিমানা আরোপ করার বিধান চালু করা। নদীর ক্ষেত্রে কর্ডন পদ্ধতি পরিত্যাগ করে উন্মুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা।

জাভেদ জাহান বলেন, বুড়ি গঙ্গা নদীর ভাসমান বর্জ্য পরিস্কার করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে প্রতিনিয়তই পানিতে ভাসমান বর্জ্য জমা হয়; যা পরে পানির নিচে গিয়ে পতিত হচ্ছে।

সানজিদা খান, নদী পাড়ের মানুষও দূষণের সাথে জড়িত। তারা নদীতে ময়লা বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকলেই নদী দূষণ মুক্ত হবে। ঢাকা ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনকে দূষণ মুক্ত করার জন্য অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে। নদী কারও ব্যক্তিগত সম্পদ না এটি জাতীয় সম্পদ।

আজকের আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবসে আমাদের দাবীঃ
১. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে পূণঃর্গঠন করে হাইকোর্টের নির্দেশের আলোকে দেশের অভ্যন্তরে সমস্ত নদী-বিল-
হাওর এবং জলাশয়ের অভিবাবক হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
২. সমস্ত দখলদারদের তালিকা হালনাগাদ করে প্রকাশ করা এবং দখলকৃত নদীগুলোকে দখলমুক্ত করার জন্য দ্রুত
পদক্ষেপ গ্রহণ।
৩. দখল উচ্ছেদের পর প্রত্যেকটি নদী, খাল, হাওর, ও বিলের সীমানা পানি বিজ্ঞানের আলোকে নির্ধারণ করা;
৪. তিস্তা নদীকে জীবন্ত ও আইনি সত্তা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ঘোষিত রায়ের বিধান মেনে চলায় সকলকে বাধ্য
করা;
৫. নদী এবং অন্যান্য ভূপৃষ্ঠস্থ জলাশয়ে অপরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশন সম্পূর্ণ বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৬. নদী ও জলাশয় আইন মানতে বাধ্য করা।
৭. নদী, খাল ও জলাশয় দূষণকারীদের উপর উপযুক্ত জরিমানা আরোপ করার বিধান চালু করা। একইসাথে
দূষণকারী প্রতিষ্ঠান/ ব্যক্তিকে কোন ধরনের রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার প্রদানে বিরত থাকা।
৮. নদী হতে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালি উত্তোলন বন্ধ করা এবং বালি উত্তোলনের একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া চালু
করা।
৯. নদীর ক্ষেত্রে কর্ডন পদ্ধতি পরিত্যাগ করে উন্মুক্ত পদ্ধতি অবলম্বনসহ অবিলম্বে সকল প্রকল্প ও উদ্যোগ সমন্বিত
করার উদ্যোগ গ্রহণ।
১০. দেশের সকল নদ-নদী ও খাল দখল-দূষণ মুক্ত করা।
১১. আন্তঘাতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বন্ধ কর।

Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *