|

টঙ্গীবাড়িতে প্রশাসনের চোখের সামনে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভরাট বাণিজ্য, প্রতিক্রিয়াশীল নিরবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বড়লিয়া ব্রীজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে প্রশাসনের চোখের সামনেই অবাধে চলছে ড্রেজার বসিয়ে বালু ভরাটের অবৈধ বাণিজ্য। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, প্রশাসনের নিকটস্থ এলাকাতেই এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, বড়লিয়া ব্রীজের পূর্ব পাশে ছাত্রদল ও যুবদলের নাম ব্যবহার করে বসানো হয়েছে একাধিক আনলোড ড্রেজার। এই ড্রেজারগুলোর পাইপ মেইন রাস্তার পাশ দিয়ে সোনারং ব্রীজ এলাকায় বিস্তৃত হয়ে ফসলি জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। একইভাবে ব্রীজের উভয় পাশে বিএনপি নেতা শাহজাহান বেপারী, যুবদল নেতা আক্তার মল্লিক এবং ইকরাম মল্লিকের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচটি ড্রেজার বসিয়ে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। একই স্থানের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রশিদ নামের আরেক বালু ব্যবসায়ী ফসলি জমিতে তৈরি পকেটে ড্রেজার বসিয়ে বালু ফেলা অব্যাহত রেখেছেন। সোনারং লাল মসজিদের পাশে ব্রীজের নিচে বালু ভর্তি বাল্কহেডে আনলোড ড্রেজার বসিয়ে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে।

বাধার মুখে শিক্ষা ও ঘুম:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব ড্রেজার রাত-দিন একটানা শব্দ করে চলায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং রাতে ঘুমানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দিনের বেলাতেও তীব্র শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাপন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি:
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শাহজাহান বেপারী মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, বরং সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার আগ্রহ জানান।
যখন আক্তার মল্লিককে প্রশ্ন করা হয় এই ড্রেজার ব্যবসার অনুমতি আছে কিনা, তিনি সরল ভাষায় বলেন, “সকলকে ম্যানেজ করেই এ ব্যবসা করা হচ্ছে।”
অপরদিকে ইকরাম মল্লিক বলেন, “কে বলছে আমরা এতগুলো ড্রেজার চালাচ্ছি? আপনি সোনারং চৌরাস্তায় আসেন, সেখানেই কথা বলবো।”

প্রশাসনের অবস্থান—‘লোকেশন দিন, ব্যবস্থা নেব’
টঙ্গীবাড়ি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ওয়াজেদ ওয়াসীফ জানান, “কোনো অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। নির্দিষ্ট লোকেশন পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আপনি হোয়াটসঅ্যাপে লোকেশন দিন, অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”

সচেতন মহলের প্রশ্ন—প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব কীভাবে চলছে?
সচেতন মহল বলছেন, প্রশাসনের কার্যালয়ের আশেপাশেই যেখানে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে ব্যবসা চালানো হচ্ছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ‘লোকেশন দেন’ টাইপের বক্তব্য হতাশাজনক। টঙ্গীবাড়ির অন্য এলাকায় পাইপ কেটে ও ড্রেজার ভেঙে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সরকারি ফসলি জমি রক্ষা আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন সত্ত্বেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *