|

মুন্সীগঞ্জে একতরফা সালিশে সংসার ভাঙার অভিযোগ, আলোচনায় ইউপি সদস্য কাউসার আহম্মেদ বাবু

টংঙ্গীবাড়ি (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য কাউসার আহম্মেদ বাবুর বিরুদ্ধে একতরফা রায় দিয়ে ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংসার গড়ার নামে সংসার ভাঙার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ মাস আগে টঙ্গীবাড়ি থানার ধামপাড়া গ্রামের মঞ্জু মাষ্টারের ছেলে মিশুকের সঙ্গে সিরাজদিখান উপজেলার চরবয়রাগাদি গ্রামের তানজিলা আক্তারের বিয়ে হয়। ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কাবিন ধার্য করে সামাজিকভাবে সম্পন্ন হয় বিয়েটি। বিয়ের কিছুদিন পর মিশুক কর্মসূত্রে সিঙ্গাপুর চলে যান। এদিকে মিশুকের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী তানজিলা শ্বশুরবাড়িতে থেকে মিশুকের মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
বিয়ের কিছুদিন পর তানজিলা গর্ভবতী হন। তবে প্রায় ৭-৮ মাসের সময় শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি বাবার বাড়ি ফিরে যান। এরপর উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে সমাধানের চেষ্টা চলতে থাকে।

পরবর্তীতে বুধবার (১৫ অক্টোবর ২০২৫) স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার কাউসার আহম্মেদ বাবুর নেতৃত্বে ধামপাড়া গ্রামে এক গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে মিশুকের মা ও তানজিলা উভয়েই সংসার টিকিয়ে রাখার পক্ষে মত দেন। কিন্তু শেষপর্যায়ে জুড়ি বোর্ডের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়— ভবিষ্যতে যদি মেয়েকে নির্যাতন করা হয়, তাহলে মিশুককে ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে হবে; অপরদিকে মেয়ে যদি স্বেচ্ছায় চলে যান, তাহলে তাকে কোনো খরচ দিতে হবে না।

তানজিলার সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসায় সিদ্ধান্ত হয়, তিনি আপাতত বাবার বাড়িতে থাকবেন এবং স্বামী মিশুককে ৫০ হাজার টাকা ও প্রতিমাসে ১৫ পনের হাজার টাকা খরচ দিতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য কাউসার আহম্মেদ বাবু সালিশ শেষে ভ্যান্ডার থেকে কেনা খালি স্ট্যাম্পে উভয়পক্ষের স্বাক্ষর নেন, তবে সিদ্ধান্তগুলো উভয় পরিবারের সম্মতি ছাড়া একতরফাভাবে রায় আকারে ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত সচেতন মহল বিষয়টিকে “একতরফা ও অমানবিক” বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি সালিশে উপস্থিত কিছু ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বাক্ষর নিতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও উভয়পক্ষের মতামত উপেক্ষা করে শনিবারের তারিখ পরিবর্তন করে বুধবারে সালিশ বসানো হয়।

এ ঘটনায় মিশুকের পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গীবাড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য কাউসার আহম্মেদ বাবু বলেন, “আমি একতরফা রায় দিইনি। উভয়পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনাগুলো সমাজে সালিশ প্রথার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *