| |

সরকার কৃষক ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে: স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

রোববার বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ও উপপরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৪০–৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেলেও আমদানির অনুমতি দেওয়ার খবরে বাজারে দাম কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, “এই কারসাজির মাধ্যমে যেমন কৃষকদের ঠকানো হচ্ছে, ভোক্তাদের আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এই চক্র শনাক্তে আমরা কাজ করছি। সরকারের লক্ষ্য—কৃষক ও ভোক্তা কেউই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

সার মজুত ও তামাক চাষ
দেশে সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে কৃষি উপদেষ্টা বলেন, তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে সরকার কড়াকড়ি আরোপ করবে। “তামাক স্বাস্থ্যকর নয় এবং এর কোনো উপকারিতা নেই। তাই তামাক চাষে সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোরতা আনা হবে,” বলেন তিনি।

ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণে জোর
তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কমাতে হবে। তিনি বলেন, “কীটনাশক ব্যবহার করে সাথে সাথে ফসল বাজারজাত না করে ৪-৫ দিন পর বাজারজাত করলে ভোক্তার ক্ষতি অনেকটাই কমবে। এজন্য কৃষকদের সচেতন করতে হবে।

আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা
চলতি বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, বাজারে সবজির দাম বর্তমানে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে আরও কমবে। তবে কৃষক যেন লোকসানে না পড়ে, সেদিকে সরকারের সতর্ক নজর থাকবে।

তিনি জানান, সবজি সংরক্ষণে ইতোমধ্যে ১০০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১০০টি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক থাকবে এবং শীত-গ্রীষ্মের মধ্যবর্তী ট্রানজিট সময়েও বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

দুর্নীতি রোধে লটারি ভিত্তিক পদায়ন
উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসিদের পদায়ন করা হয়েছে। প্রয়োজনে একই পদ্ধতিতে কৃষি কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে, যা দুর্নীতি ও তদবির কমাতে সহায়তা করবে।

পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা
তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে—

 প্রতি আমদানিকারক একবার আইপি (আমদানি অনুমতি) পাবেন
প্রতিটি আইপি সর্বোচ্চ ৩০ মেট্রিক টনের
প্রতিদিন ৫০টি করে আইপি দেওয়া হবে

ব্রিফিংকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে বৈঠকে অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক ও জেলা উপপরিচালকগণ।

Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *