সিরাজদিখানে রোপা আমন ধানে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মো. মোতালেব: মুন্সীগঞ্জ জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে সিরাজদিখান উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উর্বর বেলে দোঁআশ মাটির কারণে এ অঞ্চলে রোপা আমন ধান চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সাইদ শুভ্র জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিরাজদিখান উপজেলায় খরিপ-২ মৌসুমে ৩,১৫৬ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের ২,৬৯৩ হেক্টর জমির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ধান চাষীরা জানান, গ্রীষ্মের শেষে বীজতলায় বপন করা ধানের চারা ২০-২৫ দিনের মধ্যে গজিয়ে ওঠে এবং বর্ষা মৌসুমে জমিতে রোপণ করা হয়। বর্তমানে কার্তিক মাসের শেষের দিকে আসায় ধানের শীষ সোনালি হয়ে উঠেছে, আর কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতিতে।
উত্তর তাজপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল খান বলেন, “আমি ৫০ শতাংশ জমিতে রোপা আমন ধান করেছি, খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে লাভের মুখ দেখব।
রসুনিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহমান খান জানান, “৩০ শতাংশ জমিতে ধান লাগিয়েছি। শুরুতে বৃষ্টি ভালো থাকলেও মাঝখানে কিছুটা ঘাটতি ছিল। তবে এখন গাছে শীষ পাকছে, আশা করছি ভালো ফলন হবে।”
রাঙ্গামালিয়া গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী খান বলেন, “৫০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি, খরচ পড়েছে ৬৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে খরচ উঠবে, কিছু লাভও হবে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর মুন্সীগঞ্জ জেলায় মোট ৩,৬৮১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজদিখান উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি—৩,১৫৬ হেক্টর। এবারের মৌসুমে জেলার মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০,০৩৩.৩ মেট্রিক টন, যার মধ্যে সিরাজদিখান একাই উৎপাদন করবে প্রায় ৮,৩৯২.৩২ মেট্রিক টন ধান।
তিনি আরও জানান, রোপা আমন আবাদে সিরাজদিখানের ১,৩০০ কৃষককে সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৫ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি সার ও ১০ কেজি করে এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৪টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সূর্যালোক অব্যাহত থাকলে এবার সিরাজদিখানে রোপা আমন ধানে বাম্পার ফলন হবে।
