স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল আজ বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা সংকট, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (MLA) বিষয়ক অগ্রগতি।
হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্গ ঢাকা সফর করেন। আসন্ন জুনে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছিলেন, তবে গত আড়াই মাসে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানালে হাইকমিশনার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (MLA) সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
অনিয়মিত অভিবাসন রোধে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে বলে জানান হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বৈধ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া কাজ করছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রেরণের মাধ্যমে নিয়মিত অভিবাসন বাড়াতে আগ্রহী।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এত বিপুল জনগোষ্ঠীর চাপ এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্যাম্পে মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন হাইকমিশনার।
সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং নতুন দায়িত্ব গ্রহণে তাঁকে অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
