মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি: ইশরাক হোসেন

মুন্সীগঞ্জ (গজারিয়া) প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি। এটি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়—বরং পুরো জাতির গৌরবময় সম্পদ।
গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এক ঐতিহাসিক জনযুদ্ধ। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন। তাই এই যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও চেতনা সমাজের প্রতিটি স্তরে সঠিকভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিকৃত ইতিহাস প্রচারের মাধ্যমে এর প্রকৃত চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যার যে অবদান রয়েছে, তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে জাতির সামনে সঠিক ইতিহাস উপস্থাপন করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় যারা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং দখলদার বাহিনীকে সহায়তা করেছিল, তারা ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে। এসব শক্তি সময় সময়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও বিভাজন উসকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভবিষ্যতে তাদের অপচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চালু করে। তবে পরবর্তীতে এই খাতে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ ওঠে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে অনেকে সুবিধা নেওয়ায় নতুন প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনীয় নয়। কারণ মুক্তিযুদ্ধ ছিল সশস্ত্র লড়াই, আর সাম্প্রতিক আন্দোলন ছিল গণভিত্তিক।
মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বীর নিবাস প্রকল্পসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে তাদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা এবং বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম পিন্টুসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
