| |

বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যৌথ অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

গত ০৭ জুলাই (মঙ্গলবার) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরদিকে ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং (Nguyen Van Long)

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত জানুয়ারি ২০২৬-এ ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।

১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে ভিয়েতনাম সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন এবং প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষর হলে অচিরেই এ বাণিজ্য দ্বিগুণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ আমদানিরও আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ পরিবেশ কাজে লাগাতে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এছাড়া আসিয়ানে বাংলাদেশের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা এবং আরসিইপি (RCEP)-এর সদস্যপদ অর্জনে ভিয়েতনামের সমর্থন কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জবাবে ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করে।

Spread the love

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *